সর্বশেষ
Loading breaking news...

সকল বিভাগ

মোট 11 টি বিভাগ

সব নাগরিকের জন্য আসছে ‘এক-আইডি’, পাওয়া যাবে স্বাস্থ্য–শিক্ষাসহ সব সেবা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সব নাগরিকের জন্য একক ও স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জন্মের পর থেকেই এই কার্ড পাবেন দেশের সব নাগরিক, আর সারা জীবন স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের সেবা পেতে ব্যবহার করতে হবে এই পরিচয়পত্রই। কার্ডটির নাম রাখা হয়েছে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি, সংক্ষেপে এক-আইডি

স্থায়ী ও স্বতন্ত্র এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। প্রকল্পটির নাম ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার), যা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলবে প্রকল্পটি এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

কার্ড তৈরিতে কত খরচ

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য কার্ড তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবে উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি কার্ড। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ডের উৎপাদন ও মুদ্রণ খরচ ধরা হয়েছে দুই ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ২৪৬ টাকা।

এর বাইরে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে খরচ হবে ১ ডলার, অর্থাৎ ১২৩ টাকা। সে হিসাবে উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে মোট খরচ দাঁড়াবে ৩৬৯ টাকা।

পুরো প্রকল্পে মোট খরচ হবে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা দেবে সরকার। বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ হিসেবে। সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ হবে কার্ডের উৎপাদন, মুদ্রণ ও বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) তথ্য সংগ্রহ এবং বিতরণে—এ খাতে মোট ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বিদ্যমান কার্ডগুলোর কী হবে

বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ (টিআইএন) বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র রয়েছে। নতুন কার্ড পাওয়ার পর সরকারি দপ্তরে মানুষকে একই তথ্য বারবার দিতে হবে না। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, একক এই পরিচয়পত্র চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান অন্য সব কার্ডের কার্যকারিতা থাকবে না—এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো কার্ডগুলোর সেবা তখন নতুন কার্ডেই পাওয়া যাবে। তবে সবকিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘দেশে এখন অনেক ধরনের কার্ড থাকলেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। কারও দুটি জন্মনিবন্ধন কার্ড, কারও দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। নতুন পরিচয়পত্র হবে একক ও স্থায়ী। নতুন জন্ম নেওয়া একটি শিশুও এই কার্ড পাবে। আর কোনো কার্ডের প্রয়োজন হবে না।’

একক পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা সামনে আনা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নতুন এই পরিচয়পত্রের ধারণার নাম দিয়েছেন ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’—অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি কার্ড থাকবে, সেটিই হবে তাঁর ডিজিটাল পরিচয় এবং তা দিয়ে তিনি ডিজিটাল লেনদেনও করতে পারবেন। তবে কার্ডে ঠিক কোন কোন তথ্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনের তথ্যভান্ডারগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকের একই তথ্য বারবার সংগ্রহ করার প্রয়োজন পড়বে না, ফলে নাগরিকের ভোগান্তিও কমবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রকে চাইলে একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের এতে যুক্ত করা যায়। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে এ বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।’

সরকারের বর্তমান অর্থসংকটের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে নানা মত দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, বিভিন্ন খাতে বিপুল ব্যয়ের চাপ থাকলেও রাজস্ব আদায় কম। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পাঁচ বছর ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে, ফলে ভবিষ্যতে এত অর্থসংকট নাও থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের অঙ্গীকার ছিল ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার। ফ্যামিলি কার্ড তৈরি ও তথ্য সংগ্রহে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা, আর কৃষক কার্ডে ৬৮১ কোটি টাকা। তবে প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডে কত খরচ হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

আরও পড়ুন