সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়া শুরু, ১০ হাজার যাবে বিনা খরচে
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে আগামী মাসের শেষের দিকে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক যাবেন, তাঁদের পাঠানো হবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার শ্রমিক যাবেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমান। সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, শ্রমিক পাঠানোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এসব ব্যাপারে হাইকমিশনার তাঁদের অবহিত করেছেন।
সাক্ষাতে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন দেশটির হাইকমিশনার। সাধারণত সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজে এই বিটুমিন ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টি হলেও সেখানে কার্পেটিং করা রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না, কারণ কার্পেটিংয়ের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করা হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, ২০০৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন বগুড়া সদরে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সড়ক পাইলটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন বর্তমান সচিব শহীদুল হাসান। মালয়েশিয়া থেকে পলিমার মডিফাইড বিটুমিন এনে ২ কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করা হয়েছিল, সেটি এখনো ভালো আছে। বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্ষায় রাস্তা যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে ২০ শতাংশ রাস্তা এখন থেকেই রাবারাইজড বিটুমিন দিয়ে নির্মাণ করা হবে। বিটুমিনের সঙ্গে রাবার থাকলে মালয়েশিয়ার মডেলে বর্ষাকালে বাংলাদেশের রাস্তাগুলো সহজে নষ্ট হবে না। ভবিষ্যতে গ্রামীণ রাস্তা মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা নতুন রাস্তা নির্মাণে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় রাবারাইজড কার্পেটিং বিটুমিন ব্যবহারের পথে এগিয়ে যাবে সরকার।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি খাতে বিনিয়োগ করবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, হালাল ফুডসহ বিভিন্ন খাতে তাঁরা বিনিয়োগ করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে; খুব দ্রুতই এসব প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে হাইকমিশনার জানিয়েছেন।
ই-রিকশা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুয়েট ও জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নীতিমালায় এই বিষয়টি থাকবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এসব নিবন্ধন দেবে এবং মূল সড়কে ই-রিকশা চলতে দেওয়া হবে না।
ই-রিকশার নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে এক সপ্তাহের মধ্যে বা পরের সপ্তাহেই যত দ্রুত সম্ভব নীতিমালাটি প্রকাশ করা হবে। আইনের আলোকে নীতিমালা চূড়ান্ত হলে ই-রিকশাগুলো একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।
যেসব পয়েন্ট বা গ্যারেজে ই-রিকশা রিচার্জ হবে, সেখানে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে রিচার্জের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলবে এবং পরে এটি ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা হবে। চার্জ নেওয়া এসব পয়েন্টকেও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, এখন যেখানে-সেখানে ই-রিকশা তৈরি হচ্ছে, কে কোথায় তৈরি করছে তার কোনো হিসাব নেই। এগুলো একটি ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। বুয়েটের নকশা অনুযায়ী যারা উৎপাদন করবে, সেই কারখানাগুলোকেও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এবং নিবন্ধিত কোম্পানি হতে হবে। ঢাকার জন্য ট্রাফিক বিভাগের একটি প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে; প্রস্তাবটি একেবারে অমূলক নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে চারটি করে মোট আটটি জোন করা হবে, অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য এসব জোন নির্ধারণ করা হবে। আটটি জোনের আটটি রং থাকবে এবং একটি জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে যেতে না পারে, সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলবে। কোন রুটে ই-রিকশা চলাচল করবে, তা ঠিক করবে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ।
এ ছাড়া চার ও ছয় যাত্রীর ই-রিকশা গ্রামীণ এলাকায় এবং জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে চলাচলের জন্য নিবন্ধন পাবে। তবে ঢাকা শহরে নিবন্ধন পাবে কেবল দুই ও চার যাত্রীর ই-রিকশা। সেগুলো অবশ্যই বুয়েট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়িত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।